ঢাকা শনিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবৈধভাবে পাঁচ শতাধিক দোকান নির্মাণ

আইএম নিউজ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২ ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কোয়ার সুপার মার্কেটে নকশাবহির্ভূতভাবে পাঁচ শতাধিক দোকান গড়ে তুলেছে একটি অসাধু চক্র। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত চক্রটি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বৈধ দোকানদারদের জিম্মি করে রেখেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) বিষয়টি অবহিত করা হলেও সংস্থাটি নির্বিকার।

সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা বিশিষ্ট ডিএসসিসির এই মার্কেটটিতে নকশা অনুযায়ী ৯৭৬টি দোকান রয়েছে। নীতিমালা অনুসরণ করে সিটি করপোরেশন ওই দোকানগুলো বরাদ্দ দিয়েছে। এরপর বিভিন্ন সময় ওই মার্কেটের উন্মুক্ত জায়গা ও ছাদে অবৈধভাবে পাঁচ শতাধিক দোকান নির্মাণ করেছে দখলদাররা। ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর মার্কেটের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেন। এরপর বছর না যেতেই আবার দখলদাররা জেকে বসে মার্কেটটিতে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মার্কেটের প্রথম তলা থেকে চারতলা পর্যন্ত সিড়ি, হাঁটাচলার পথ, উন্মুক্ত জায়গায় প্রায় ২৫০টি দোকান গড়ে তুলেছে চক্রটি। এ ছাড়া ভবনের ছাদে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই নতুন করে আরও প্রায় ২৫০টি দোকান গড়ে তুলছে তারা। অর্থাৎ নকশা অনুযায়ী মার্কেটটি চারতলা হলেও বাস্তবে এখন মার্কেটটি পাঁচতলা।

ডিএসসিসি নগর ভবন সংলগ্ন এই মার্কেটে এমন দখলদারিত্বে হাতাশ ও ক্ষুব্ধ বৈধ দোকান মালিকরা। তারা জানান, ডিএসসিসি মেয়র অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে বদ্ধপরিকর হলেও তার অধীনস্থরা যথাযথভাবে নির্দেশ পালন করছেন না। এজন্য তিনি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করার পর নতুন করে অবৈধ দখলদাররা জেঁকে বসেছে।

মার্কেটে অবৈধ দখলদারিত্বের বিষয়টি ডিএসসিসি মেয়রকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম। ১৬ আগস্ট অভিযোগপত্রটি দেওয়া হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও কোনো অগ্রগতি লক্ষ করছে না দোকান মালিকরা।

অভিযোগে বলা হয়, মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির কমিটি শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদিত। বৈধ কমিটি থাকার পরও অসাধু চক্র নিজেদের মতো কমিটিও গঠন করেছে। এখন অস্ত্র ও পেশিশক্তি খাটিয়ে তারা মার্কেট দখল করে রেখেছে। বৈধ কমিটিকে তারা মার্কেট পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে দিচ্ছে না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ডিএসসিসির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা নিয়াজ মুর্শেদ জুম্মন মার্কেট থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। অসাধু সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব আছে ডিএসসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন। সামনে থেকে যুবদল নেতা জুম্মন ও যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিলেও নেপথ্যে রয়েছেন ডিএসসিসির এক প্রভাবশালী ঠিকাদার এবং ডিএসসিসির এক কাউন্সিলর। এর বাইরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব পরিচালনায় মার্কেটে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন তারা।

মার্কেটে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির নেতারা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, মার্কেটের বর্তমান নির্বাচিত কমিটির নেতাদের মার্কেট থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে অসাধু দখলদার ও সন্ত্রাসী চক্র। তারা মার্কেটের জেনারেটর ও ১২টি চলন্ত সিঁড়ি খুলে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কয়েকজন বৈধ দোকান মালিক জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের নিয়ে শাহাবুদ্দিন, জুম্মন ও তাদের সহযোগীরা মার্কেটের ছাদে মিটিং করে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, অবৈধ দোকানগুলো তারা বৈধ করে দেবে। এজন্য দোকানভেদে (ছোট-বড়) ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা ধরা হয়। চলতি বছরের শুরুতে একই কাজ করবে বলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নেয় তারা। এ ছাড়া উচ্ছেদ ঠেকানোর কথা বলে প্রতিমাসে দোকানভেদে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সুন্দরবন মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সভার সত্যায়িত কপি গত বছর ১২ অক্টোবর হাতে পেয়েছি। শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান মন্ডল ও শ্রম কর্মকর্তা হাসান আসকারের উপস্থিতিতে সাধারণ সভা হয়। বৈধ কমিটি তখন থেকেই দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নিয়াজ মোর্শেদ জুম্মনের নেতৃত্বে দখলবাজ ও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন কৌশলে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে সেখানে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রেখেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমি এখন মার্কেটে যাই না। তবুও কেন আমার নামে অভিযোগ করা হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। আর যুবদল নেতার সঙ্গে আমার কোনো সখ্য নেই। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লেীগ করি। আর এই সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের লোকেরা আমাদের মার্কেট থেকে বের করে দিল। এখন তারা আবার আমাকে হয়রানি করতে নানা জায়গায় চিঠিপত্র দিয়ে বেড়াচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে ডিএসসিসির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা নিয়াজ মোর্শেদ জুম্মনের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করা হলে বিপরীত প্রান্ত থেকে বলা হয়, যাকে ফোন দিয়েছেন নম্বরটি তার নয়। অবশ্যই ওই নম্বরে হোয়াটসআপে তার ছবি দেওয়া রয়েছে। এ ছাড়া মার্কেটের দোকান মালিকরা নিশ্চিত করেছেন ওই নম্বরের ব্যক্তিটি যুবদল নেতা জুম্মুন।

এসব বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, গুলিস্তান সুন্দরবন মার্কেটে নতুন করে কিছু অবৈধ দোকান নির্মাণের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ওইসব দোকান ভেঙে দেওয়া হবে। দখলদার যে বা যারা হোন না কেন, তাদের রক্ষা হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন....