মির্জাপুর প্রতিনিধি :: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক কলেজছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ার পর চিরকুট লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ওই ছাত্রী। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সুজন (২৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। গোপনে তা ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় কলেজছাত্রীর কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ছাড়া কলেজে যাওয়া-আসার পথে আরও টাকার জন্য তাকে মারধর করাসহ নানাভাবে ভয় ও হয়রানি করত সুজন। ১৫ দিন আগে ওই ভিডিওটি ‘লোকাল সাফি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে কলেজছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে বুধবার বিকালে তিনি সুইসাইড নোট লেখে তাদের বসতঘরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এদিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সুজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাহাঙ্গীর আলম বাদশা মেম্বারের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
চিরকুট: ‘আমারে তুমরা সবাই মাফ কইরা দিও, আমার জন্য তুমাগো অনেক মানসম্মান নষ্ট হইছে, আমি চাই না তুমাগো আরও মানসম্মান নষ্ট হক। তোমরা জানো না ঐতি কি কি করছে আমার সঙ্গে। আমের জোর কইরা ধর্ষণ করছে। তার পর আমার ছবি তুইলা সেই ছবি দিয়া আমার কাছে থাইকা দেড় লাখ টাকার জিনিস নিছে।’
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি শেখ মো. আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, তানিয়া নামে ওই কলেজছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। একটি চিরকুট নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আত্মহত্যার কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
