ঢাকা শনিবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভৈরবে অবৈধ ড্রেজিংয়ে বালি উত্তোলন ,ভাঙ্গন আতঙ্কে গ্রামবাসী

মো: ইমরান হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৩ ১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ে বালি উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে শামপুর গ্রামবাসীর। বার বার বাধা দিয়েও বন্ধ হচ্ছেনা বালি উত্তোলন। প্রতিকার চেয়ে বালি উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে শামপুর গ্রামবাসি। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বলছে নদী থেকে বালি উত্তোলন অবৈধ। বালি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক দিন যাবত একটি প্রভাবশালী চক্র শামপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা ড্রেজারে বালি উত্তোলনের ফলে গ্রামটি যে কোন সময় মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। গ্রামে ২ হাজার লোকের বসবাস। গ্রামটি বিলীন হয়ে গেলে ২ হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাদের মাথা গোজাঁর ঠাই থাকবেনা। শুধু শামপুর গ্রামই নয় বালি উত্তোলনের ফলে আশ-পাশের ফসলি জমি এবং গ্রাম ও নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে শামপুর গ্রামের মোঃ হোসেন মিয়া জানান, শামপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদী থেকে ড্রেজারে বালি উত্তোলনের কারনে গ্রামটি যে কোন সময় মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমরা বাধা দেওয়ার পর ও তারা বালি উত্তোলন বন্ধ করছেনা। এ বিষয়ে একই এলাকার মিজান মিয়া জানান, গ্রামটি মেঘনা নদী ঘেষা হওয়ায় আমরা ভাঙন আতঙ্কে থাকতাম সব সময়। কিন্ত বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রচেষ্টায় ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দিয়েছে। এখন বালি উত্তোলনের বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমাদের মাথা গোজাঁর ঠাই থাকবেনা। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন যেন বালি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়। একই কথা জানালেন হোসেন মিয়া, অহিদ মিয়া, মোজাম্মেল, রুহুল আমিন শামিমসহ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলন সম্প‚র্ণ অবৈধ। শামপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ড্রেজারে বালি উত্তোলন করছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে বালি উত্তোলন বন্ধে ড্রেজার মালিককে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বালি মহাল করা হবে এ জন্য নদী সার্ভে, জরিপসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বৈধভাবে মেঘনা নদী থেকে বালি উত্তোলন করা গেলে সরকার ও রাজস্ব পাবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....