ঢাকা সোমবার , ৬ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুদের খপ্পরে সর্বহারা সাধারণ মানুষ

মো. ইমরান হোসেন কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
নভেম্বর ৬, ২০২৩ ২:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার গ্রামপর্যায়ে সুদ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ত দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছে গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো। অভাব অনটোন আর ধার দেনায় জর্জরিত গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। সুদের গøানি টানতে সংসারে যেটুকুই ঘটিবাটি সম্বল আছে তা বেঁচা-বিক্রি করে সর্বহারা হয়ে পড়েছে তারা।
বর্তমান সময়ে দ্রব্য মুল্যের চরম উর্ধ্বগতি ও সংসারের নানা বিপদ আপদে অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে নানা সমস্যার সমুখীন হতে হয় নি¤œ আয়ের গ্রামের লোকদের। কোনো আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের কাছে টাকা ধার না পেয়ে বেশিরভাগ মানুষই হতাশ হয়ে পড়ে। চরম হতাশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে তারা সুদের টাকার সন্ধান করতে শুরু করে। আর এই সুযোগে অতি মুনাফার আশায় এক শ্রেণির লোক চড়া সুদে টাকা ধার নিতে অফার করে। টাকা গ্রহণের পর শুরুর দিকে মুনাফা পরিশোধ করে আসলেও এক পর্যায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে অপারোগতা স্বীকার করতে হয়। সুদে-আসলে অতিরিক্ত ঋণের চাপে অনেক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এর প্রভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার মাঝে একটি বিরাট ফারাক তৈরী হয়। যা ভবিষ্যত জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। আবার অনেক পরিবারের সদস্য চড়া সুদের চাপে পড়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানাযায়, কেউ দিন মজুরের কাজ করে; আবার অনেকে কৃষি কাজ করে; কেউ আবার রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবেও কাজ করে। তারা অনেকেই জানান, বর্তমানে তাদের কাজের চাহিদা অনেক কম; তাই আয়েও কম। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে তারা ঠিকমতো বাজার করতে পারছেন না। শাকসবজির দাম দিন-দিন বেড়েই চলছে। দিন শেষে যে টাকা পায় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তারপর আবার ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ। এর মধ্যে কোন বড় ধরণের বিপদে পড়লে কোন আত্মীয় স্বজনের কাছেও ধার হিসেবে টাকা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সুদে টাকা নিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার এক নারী অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্থ হলে পাশর্^বর্তী এক ব্যক্তির নিকট থেকে শতকরা ১০% সুদ হারে ১ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। ১০ মাস পর তার সুদে-আসলে টাকার অংক দাঁড়ায় ২লক্ষ টাকা । তিনি ১লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে না করতেই তার টাকার সংখ্যা সুদে-আসলে আবারও ১লক্ষ ৫০ ছাড়িয়ে যায়। কোনভাবেই সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
এভাবে দিন-দিন সুদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে জেলার অনেক পরিবার। এ সকল সামাজিক ব্যধি ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জেও। সাধারণ পরিবারকে আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গরীবের রক্ত শোষন করে ঘুরে বেড়ায় অনেক বৃত্তশালীরা। তাই এখন থেকে এ ধরণের সামাজিক ব্যাধি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো তীব্রতর আকার ধারণ করতে পারে বলে এমনটাই মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....