কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) আসনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী সদ্য পদত্যাগ করা করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম আওলাদ আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর সাথে রাজনীতির খেলার মাঠে লড়াই হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কারণ আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টির এখনো জোট না হওয়ায় এ আসনটি জাপাকে এখনো ছেড়ে দেয়া হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর এ আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দেয়ায় করিমগঞ্জ-তাড়াইলের ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে আছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। তাই এ আসনে বর্তমান এমপি জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর প্রধান প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে নৌকার প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম আওলাদ। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাপা থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ।
এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচন করছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এডিসি মেজর(অব:) নাসিমুল হক, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবির ভ‚ইয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা মাহফুজুল হক হায়দার ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মহাজোটের শরিক হিসেবে গত দুই বারের মতো জাপাকে এবারও এ আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে- এমন আশঙ্কা দলীয় নেতাকর্মীদের। তখন কোনোভাবেই ফাঁকা মাঠে জাপার প্রার্থীকে ছেড়ে দিতে চান না তারা। ম‚লত এজন্যই একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার হলেও যেকোনো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। আর এমন কৌশলে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর কপালে ‘চিন্তার ভাঁজ’ পড়েছে বলে জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও পেয়েছিলেন নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ। কিন্তু জোটগত সমীকরণের কারণে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ২০১৮ সালেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাপাকে ছাড় দিতে হয়েছিল তাকে। পরে ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পান তিনি। এবারের নির্বাচনেও মহাজোট আসনটি জাপাকে ছেড়ে দিয়ে তাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করতে পারে- এমন আশঙ্কায় কৌশলগত কারণে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ বলেন,’করিমগঞ্জ -তাড়াইলে প্রায় দীর্ঘ ২০ বছর যাবত নৌকার প্রার্থী নেই। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রার্থী দেয়ায় মানুষ নৌকায় ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। কাস্টিং ভোটের আমরা ৭০ শতাংশ ভোট পাব। জাপা মহাসচিব চুন্নু সাহেব এ আসনে জামানত হারাবেন বলেও জানান তিনি।
