কিশোরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোছা. শিরিনা আক্তার নামে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের বাধা দিলে তাদের আক্রমণে আহত হয় আরো দুইজন।
শুক্রবার (৩১ মে) বিকাল ৪টায় সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শনিবার ১জুন শিরিনা আক্তার ছয় জনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫জনকে অভিযুক্ত করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মৃত হাসেন উদ্দিনের ছেলে আফসর উদ্দিন, মৃত জহুর আলীর ছেলে মান্নাছ মিয়া, চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন, মৃত সাত্তার মিয়ার ছেলে মো. আবুল কালাম, মৃত কাদির মিয়ার ছেলে কাহার মিয়া ও তার ভাই বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন সহযোগী।
আহতরা হলেন- মোছা. শিরিনা আক্তার (২৫) ও তার ভাশুর মো. সিদ্দিক মিয়া (৪২), তারা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শিরিনা আক্তার ও থানায় করা লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, মোছা. শিরিনা আক্তারের স্বামী আব্দুল হাসিম তাঁর বড় বোন জামাইয়ের কাছ থেকে জায়গা কিনে বসতঘর নির্মাণ করে। আর সেই বসতঘরে তারা শান্তিতে বসবাস করে আসছে। কিন্তু সেই জায়গা নিয়ে তার ভাশুর মো. মন্নাছ মিয়া তাদের উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন ধরণে পায়তারা করছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ৪টার দিকে আফসর উদ্দিন, মান্নাছ, হেলাল মেম্বার,কালাম মিয়া, কাহার মিয়া দলবল নিয়ে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। সেই সময় শিরিনা বাধা দিলে তাকে এলোপাথারি মারপিট শুরু করে। তার চুলের মুঠি ধরিয়া টানাহেছড়া করিয়া শীলতাহানি করে। একপর্যায়ে তাকে খুন করতে চাইলে সে পালিয়ে জান বাঁচাই। এ সময় তারা শিরিনার অনুপস্থিতিতে বসতঘরে প্রবেশ করে ঘরের ওয়ারড্রপ, শোকেস ভাঙচুর করে বিশ হাজার টাকার একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ও সমিতি থেকে উঠানো নগদ এক লাখ টাকা লুটে নেয়।
এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, জায়গা নিয়ে তাদের সমস্যা নতুন না, দীর্ঘ দিনের। আমি কয়েকবার সামাজিক দরবারের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। গতকাল হাসিমের বউ শিরিনা তার ভাশুর মন্নাছের চলাচলের বাস্তা বন্ধ করে দেয় পরে আমি গিয়ে সেই রাস্তা খুলে দেই।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম মোস্তুফা জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় । এ ঘটনায় মোছা. শিরিনা আক্তার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
