যুক্তরাষ্ট্রের স্লো উইকেটে আগ্রাসী শুরু করাটা কঠিন। সেই চিন্তা থেকেই শ্রীলংকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশের। লক্ষ্য যত কম রানে আটকে রাখা যায়। বাংলাদেশের সেই লক্ষ্যটাকে অবশ্য পণ্ডই করে দিয়েছিল পাথুম নিশাঙ্কা। ব্যাট হাতে বাংলাদেশি বোলারদের ওপার চড়াও হয়ে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন তিনি। যদিও অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট পড়ছিল। আর তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে ফেলেছিল শ্রীলংকা। ১৪ ওভারেই ছুঁয়েছিল দলীয় শত রান।
তবে নিশাঙ্কা ২৮ বলে ৪৭ রান করে ফিরলে বাকিরা হাটতে পারেনি তার দেখানো পথে। মাঝে উইকেটে ধনঞ্জয়া ও আসালাঙ্কা জমে উঠার চেষ্টা চালিয়েছেন মাত্র। তাতে অবশ্য খানিকটা ভয় ঝেঁকে বসেছিল বাংলাদেশের। তবে সেই ভয় দূর করেছেন রিশাদ। ১৬ তম ওভারে এসে পরপর ফিরিয়েছেন আসালাঙ্কা ও হাসারাঙ্কাকে। তাতেই বড় সংগ্রহের স্বপ্নটা শেষ শ্রীলংকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত পুঁজি পায় ১২৪ রানের।
ডালাসে এদিন টসে জিতে বোলিং করতে নামা বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে এসে। লংকানদের ওপেনিং জুটি ভাঙে ২১ রানে। এরপর কুসল মেন্ডিসকেও দ্রুতই ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের বোলিং ইনিংসের প্রথম বলেই কামিন্দু মেন্ডিসকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন ফিজ। এরপর ধনঞ্জয়াকে নিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন নিশাঙ্কা। সেই তিনি বিপদজনক হয়ে উঠছিলেন বাংলাদেশ দলের জন্য। তবে ফিফটির আগেই তাকে ফিরিয়েছেন ফিজ। দারুণ বোলিংয়ে পরাস্ত করেছেন নিশাঙ্কাকে। ২৮ বলে ৪৭ রানে ফিরতে হয়েছে তাকে।
এরপর মাঝে জুটি গড়ে তুলে আসালাঙ্কা ও ধনঞ্জয়া। তাদের জুটিতে বড় সংগ্রহের স্বপ্নটা দেখে লংকানরা। যদিও রানের চেয়ে বল বেশি লাগানোয় খুব বেশি লাভবান হতে পারেনি শ্রীলংকা। আসালাঙ্কা-ধনঞ্জয়া দু’জনেই রানের চেয়ে বল বেশি খেলেছেন। ২১ বলে ১৯ রানে ফিরেছেন আসালাঙ্কা। ধনঞ্জয়া করেছেন ২৬ বলে ২১ রান। এই দু’জন ফিরলে লংকানদের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট পাওয়ায় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
আর সেটা করতে হলে দায়িত্ব নিতে হতো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দাসুন শানাকার। তবে তাদের সেটা করতে দেয়নি বাংলাদেশি বোলাররা। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দমিয়ে রেখেছিল লংকান ব্যাটারদের। ১৪ ওভারে ১০০ ছুঁয়া লংকানরা শেষ ৬ ওভারে করতে পেরেছে মোটে ২৪ রান। আর তাতেই নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১২৪ রানে থামতে হয়েছে শ্রীলংকাকে। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও রিশাদ। মুস্তাফিজ ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৭ রান খরচায় তুলেছেন ৩ উইকেট। অন্যদিকে ২২ রান খরচায় রিশাদের শিকার ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন।
