‘গত ইউপি নির্বাচনে চারজন পুলিশকে আমরা মেরে আহত করেছিলাম, ৭০ রাউন্ড গুলি রেখে দিয়েছিলাম, ২-৩টি পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছিলাম। এরপরেও আমি পিছপা হইনি।’ কিশোরগঞ্জের বৌলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
বৌলাই ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুর রহমান বৌলাই ইউনিয়নের পাটধা কুড়েরপাড় বডু মার্কেটে এক নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছিলেন।
তিনি আরও বলেছিলেন বলেন, এরপরেও আমি পিছপা হইনি। এরপরেও আপনারা যারা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আপনারা কি করেছেন? কিছুই করেননি। আমি ছাত্রলীগ করে ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি আমি কোনো হুমকি ধমকিকে ভয় পাই না।
এ বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছে, এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তার বিরুদ্ধে তখন কোন মামলা হয়েছিলো কিনা তা খোঁজখবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয় বৌলাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো ২০২২ সালে। আমি জেলও খেটেছি এ মামলায়। বর্তমানে এ মামলায় আমি জামিনে আছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বৌলাই ইউপি নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ফাউজুল কবির খানকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম জানান, এ বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। তিনি ব্যবস্থা নিবেন।
জানা যায়, সদর উপজেলার বৌলাই ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন গত ৭ জানুয়ারি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বৌলাই ইউপির চেয়ারম্যান পদটি শ‚ন্য হয়।
এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে ৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
