ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের জন্য নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল)। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন কমিটি অনুমোদনের কথা জানান।
নতুন কমিটিতে মোট ৫৯৩ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘তথ্য গোপন রেখে সংগঠনে যোগদান’ এবং ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নবগঠিত কমিটির কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিন সদস্যের এ কমিটিতে রয়েছেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূর আলম ভূঁইয়া ইমন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কোন হলে কারা
ঘোষিত কমিটির মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আহ্বায়ক হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম, সদস্যসচিব জোবায়ের হোসেন। শেখ মুজিবুর রহমান হলে আহ্বায়ক সাঈফ আল ইসলাম দীপ, সদস্যসচিব মো. সিহাব হোসেন। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে আহ্বায়ক আবু জার গিফারী ইফাত, সদস্যসচিব মনসুর আহমেদ রাফি।
ছাত্রী হলগুলোর মধ্যে রোকেয়া হলে আহ্বায়ক করা হয়েছে মোছা. শ্রাবণী আক্তারকে, সদস্যসচিব হয়েছেন আনিকা বিনতে আশরাফ। শামসুন নাহার হলে তায়েবা হাসান বিথী আহ্বায়ক এবং রাবেয়া খানম জেরিন সদস্যসচিব। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে দুই সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন মালিহা বিনতে খান (অবন্তী), সদস্যসচিব জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি।
বিতর্ক ও ক্ষোভ
নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক বা বর্তমান কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুকে এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
