ঢাকা সোমবার , ২৭ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নীলফামারীতে প্রতিদিন মরিচের কোটি টাকার বানিজ্য

গোলাম রব্বানী, নীলফামারী
মার্চ ২৭, ২০২৩ ৮:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের পাঙ্গা পীর সাহেবের হাটে প্রতিদিনে বসে মরিছের হাট। শুধু মরিচ বিক্রি চলছে কোটি টাকার। ভোর থেকে হাকডাক শুরু হয় চলে বিকেল পর্যন্ত।
জানা যায়, প্রতিদিন ২৫থেকে ৪৫ হাজার মণ মরিচ বিক্রি হয় সেই হিসেব করলে এখানে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হয় বলে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় ও ফেসবুকে খবরটি প্রকাশ হয়েছে।

হাটে গিয়ে দেখা যায়,ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে মুখর হাট, কেউ মরিচ বস্তাবন্দি করছেন,কেউ আবার টাকা গুনছেন।এখানে বিন্দু মরিচ,সাপ্লাই মরিচ,ডেমা মরিচ, ডেমা হাইব্রিড মরিচ,জিরা মরিচসহ দেশি মরিচ পাওয়া যায়।তবে প্রকার ভেদে এসব মরিচ প্রতি মণ ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে ভুক্তভুগীরা জানান।তবে কোনো কোনো দিন আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি হলে দাম ও একটু বেশি থাকে।
স্থানীয়রা জানান মরিচের এই হাটে জেলার কয়েক উপজেলার মরিচ চাষী যেমন ডোমার,ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শত শত মরিচ চাষী ও ব্যবসায়ী আসেন এখানে।শুধু মরিচ ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠা পাঙ্গামটুকপুর পীর সাহেবের হাটে রয়েছে অর্ধশত আড়ৎ।যাহা দূর-দূরান্তের ক্রেতা-বিক্রেতারা আনা-গোনা সরগম থাকে পুরো মেীসুম জুড়ে।

এই এলাকার আশপাশের উৎপাদিত মরিচের মান ভালো হওয়ায় এই হাটের কদর একটু বেশি। গেলো ১৪ থেকে ১৫ বছর কেনা বেচাও বেড়েছে।দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে রেল যোগাযোগ ভালো হওয়ায় খুলনা,যশোর, কুষ্টিয়া,পাবনার ও ঢাকার মতো জায়গায় এখানকার মরিচ রপ্তানী হয়ে থাকে।এতে স্থানীয় মরিচ চাষী ও ব্যবসায়ীরা অনেক খুশি।তারা বলছেন, দিন দিন মরিচের উৎপাদনের সঙ্গে বেড়েছে চাহিদা।ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকার মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে।

আরেক মরিচ চাষী আবুল হোসেন প্রতিবেদককে বলেন,মরিচে রোগ দেখা দিয়েছে,সে কারনে চিন্তায় আছি। অসময়েই কোন কোন মরিচ সাদা আবার কোন কোন মরিচ হলুদ হয়ে গেছে।গাছে এবার ফুল-ফলও কম এসেছে।বাজার থেকে ওষুধ কিনে স্প্রে করেছি। এখন পর্যন্ত কৃষি অফিসের কারো কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিতে পারিনি।ওবায়দুল হক জানান দীর্ঘ দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছেন।সপ্তাহে তিন-চার দিন মরিচ বিক্রি করতে হাটেও আসেন।তিনি আরো বলেন,এবারও তিন এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি।বর্তমানে মরিচ খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।ফলন নিয়ে চিন্তিত আছি।

কুষ্টিয়া থেকে আসা মরিচ পাইকার মজিবর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,এটি উত্তরাঞ্চলের বিখ্যাত মরিচের হাট।কয়েক বছর ধরে আমি এই হাট থেকে মরিচ কিনছি।এখান থেকে আমি বিভিন্ন জাতের মরিচ কিনে নিয়ে যাই।টাকা লেনদেন বা বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। অনেক সময় হাটে না এসেও ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে এখানকার আড়ৎ থেকে মরিচ কিনে থাকি।
স্থানীয় মরিচ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, পাঙ্গা পীর সাহেবের হাটে দীর্ঘ দিন ধরে শুধু মরিচের বেচাকেনা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মরিচ কিনে নিয়ে যায়।বাইরের জেলা থেকে পাইকার আসায় আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষীদের কাছ থেকে মরিচ কিনে ভালো দামে মরিচ বিক্রি করতে পারছি।এতে আমরাও যেমন লাভবান হচ্ছি, তেমনি আমাদের এলাকার কৃষকরাও মরিচের ভালো দাম পাচ্ছে।
এদিকে হাটে কয়েকজন চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,মরিচের ফলন বাম্পার হলেও কিছু পোকার আক্রমণে চিন্তিত চাষীরা।কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না মেলায় স্থানীয় বাজার থেকে কিটনাশক কিনে মরিচ খেতে স্প্রে করছেন।তবে দাম ভালো ও মরিচের চাহিদা থাকায় অধিক মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

হাটের আড়ৎদার সমিতির সভাপতি এনতাজুল হক বলেন,পাগলীমার হাটে মরিচের মৌসুমে প্রতিদিন হাট বসে।দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার মণ মরিচ কেনা বেঁচা হয়।এখানকার মরিচ সিরাজগঞ্জ,পাবনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া,খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।এই হাটটি উত্তরাঞ্চলে মরিচের জন্য বিখ্যাত।
পার্শবর্তী পীর সাহেবের হাটের ইজারাদার মোঃ রেজাউল ইসলাম এর সঙ্গে ইজারা ছাড়া প্রতিদিনে কোটি টাকার বানিজ্য মরিচ হাটটির বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন,শুধু এ হাটে মরিচ ওঠে আর কোন পন্য ওঠে না তাই আমরা যেহেতু টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি আমাদের কোনো ধরনের সমস্যা হয় না।তাই পার্শবর্তী এলাকা থেকে মরিচ চাষীরা এ হাটে মরিচ নিয়ে আসলে কোন রকম সমস্যা হয় না বলে তিনি জানান।হাটটির সুনাম যাতে ভালো হয় সে চিন্তা করে মরিচের হাটটি চালাচ্ছি। এছাড়া বাইরে থেকে আসা পাইকারদের খেয়াল রাখি।

এদিকে মরিচ চাষিদের অভিযোগ মানতে নারাজ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনিছুজ্জামান,উল্টো তিনি দাবি করেন, কৃষি বিভাগের অব্যাহত পরামর্শ এবং নির্দেশনায় এই অঞ্চলে মরিচের উৎপাদন বেড়েছে। লক্ষ্য মাত্রার তুলনায় মরিচের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, উপজেলায় এ বছর মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫০ হেক্টর। তার মধ্যে আমরা ৭৮০ হেক্টর অর্জন করেছি।এ বছর মরিচের ফলন ও দাম দুটোই ভালো যাচ্ছে।তিনি বলেন,এই সময়ে মরিচের কিছু সমস্যা দেখা দেয়।সাধারণত ফল ছিদ্রকারী একটি পোকা মরিচে আক্রমণ করে থাকে। পোকা দমনে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। আমাদের ব্লকে যারা আছে তারাও পরামর্শ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে যদি কৃষকরা এমামেকটিন বেনজয়েট গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করেন,তাহলে বেশি উপকৃত হবেন।আমরা এই কীটনাশক এক সপ্তাহ পর পর ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....