রংপুরে নুর আলম (১৮) নামে এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায় আগুন নেভাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।নিহত নুর আলম খামার মোড় এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে। নুর আলমের লাশ
ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীকে থানায় নেয়া হয়েছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকার তাবলীগ জামাত মসজিদ সংলগ্ন ফকির চান মিয়ার টিনশেড বাড়িতে বিদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্যাদের সঙ্গে আগুন নেভাতে যান নুর আলমও। তিনি অগ্নিকান্ডের শিকার ফকির হোসেনের বাড়ির গা ঘেষা মাজেদ মিয়ার বাড়ির ছাদে
উঠে আগুনে পানি ঢালতে থাকেন। এসময় ছাদ থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত নুর আলমের পরিবারের অভিযোগ, আগুন নেভাতে নুর আলম মাজেদ মিয়ার ছাদে উঠেন। এ সময় আগুনে পানি ঢালতে গেলে ছাদে থাকা মাজেদ
মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে নুর আলমকে ধাক্কা দেন। নুর আলম নিচে পড়ে মাথায় আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনার ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা মাজেদ মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাতে গেলে পুলিশ বাধা প্রধান করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনাও ঘটে।
খামার মোড় এলাকার রমজান আলী বলেন, আগুন নিভানোর সময় মানুষ দিববেদিক ছুটাছুটি করেছে। যে সেখান থেকে পেরেছে আগুনে পানি ঢেলেছে।কিন্তু মাজেদ মিয়া তাঁর ছাদে কাউকে উঠতে দেয়নি নুরকে ভালো কাজ করেতে এসে প্রাণ দিতে হলো। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ছাদ থেকে পড়ে তরুণ মৃত্যুর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত মাজেদ মিয়ার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
