নীলফামারীর ডোমারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কতৃক এতিমখানার নামে টি আর প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রকল্প কমিটির সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটে ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর চান্দখানা বসুনিয়াপাড়া শিক্ষা এতিমখানার লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস থেকে বসুনিয়াপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাজের জন্য টি আর প্রকল্পের আওতায় এক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের টাকার উপর লোলুপ দৃষ্টি পরে কেতকি বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমানের। তাই তিনি ১৮ই এপ্রিল মোবাইল ফোনে মাদ্রাসার শিক্ষক প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মোমিন কে একাকী ডেকে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে প্রকল্প কমিটির অন্য সকল সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাদ্রাসার শিক্ষক প্রকল্পর সভাপতি নামে ৫০ হাজার টাকায় একটি চেক প্রদান করে। উক্ত চেকটি নিয়ে প্রকল্পের সভাপতি ডোমার সোনালী ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত লোক দ্বারা চেকটি দেখার কথা বলে নিয়ে উধাও হয়। চেকটি ফেরত পাওয়ার জন্য প্রকল্প সভাপতি চেয়ারম্যানকে খুঁজতে গেলে ওই দিনই ৪ টা ১৭ মিনিটে ব্যাংক থেকে চেকের টাকা তুলে সটকে পরে। উপায়ান্ত না পেয়ে প্রকল্পর সভাপতি ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারে তার চেকের টাকা চেয়ারম্যান তুলে নিয়েছে। এই সংবাদ পেয়ে তিনি বিষয়টি মাদ্রাসা কমিটিসহ স্থানীয়দের জানান। মাদ্রাসা কমিটি সম্মিলিত ভাবে তাদের বরাদ্দকৃত টাকা তুলতে একাধিকবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে ধরনা দিয়েও কোন সুফল পায়নি। অবশেষে ৭ মে মাদ্রাসার প্রকল্প কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানান, কেতকিবাড়ি ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডে জোলাপাড়া হতে সরকার পাড়া রাস্তা সংস্কার, ৪ নং ওয়ার্ডের পারভেজ প্রধানের পুকুর পার হতে সুইচগেট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ৮ নং ওয়ার্ডের গুদামপাড়া রাস্তা সংস্কারসহ অন্যান্য কাবিখা ও টি আর প্রকল্পের একই অবস্থা। যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বরে জমিনে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। কেতকি বাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মোবাইল ফোন কেটে দেন।
