বাজারে মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম চড়া। গরীব অসহায় শ্রেণির অনেক মানুষের সাধ থাকলেও সাধ্য হয় মাছ কিংবা মাংস দিয়ে পেট ভরে খাবার। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে নিজের খরচে দেশের বিভিন্ন এলাকার গরীব অসহায় মানুষের মুখে একবেলার খাবার তুলে দিচ্ছেন মিল্টন। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চর ধনিরাম গ্রামের দুই শতাধিক গরীব অসহায় মানুষকে পেট ভরে দুপুরের খাবার খাইয়েছেন। তাঁর পুরো নাম মাহমুদুল হাসান জন মিল্টন। তিনি একই ইউনিয়নের ঘোগারকুটি গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ফকর উদ্দিনের ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জন মিল্টন কয়েকদিন আগে এলাকায় এসে স্থানীয়দের সহায়তায় অত্র এলাকার গরীব অসহায় মানুষের একটি তালিকা করেন। তারপর তিনি তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে একবেলা খাওবেন বলে দাওয়াত করেন। শনিবার সকালে জন মিল্টন তার পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে এসে এখানে সামিয়ানা টাঙান। পাশাপাশি গরীব অসহায় মানুষকে খাওয়ানোর জন্য রান্না শুরু করেন। রান্না শেষ হতেই আগে থেকে যাদের দাওয়াত করা হয়েছে তারা এখানে এসে পেট ভরে খাবার খাচ্ছেন। আমরা জন মিল্টনের এমন কর্মকান্ড দেখে অভিভূত। তার এ কাজ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
নিজের অর্থ খরচ করে গরীব অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান জন মিল্টন বলেন, আমি ন্যাশনাল লাইফ ইনসুরেন্সে কোং লিমিটেডের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে নীলফামারী জেলায় কর্মরত আছি। আমার স্ত্রী সীমা আক্তার একই প্রতিষ্ঠানে এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে আমাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়েছে। প্রত্যেকটি জায়গায় আমি দেখেছি নিম্ন আয়ের ও গরীব অসহায় মানুষের মাছ কিংবা মাংস দিয়ে পেট ভরে খাবার স্বপ্ন অনেকটা অপূরণই থাকে। বিষয়টি উপলব্ধি করে ডাল মাংস দিয়ে অসহায় কিছু মানুষের মুখে অন্তত একবেলা খাবার তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানালে সেও সম্মতি দেয়। পরে আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে ২০১৭ সাল হতে দেশের বিভিন্ন এলাকার গরীব অসহায় মানুষের মুখে একবেলার খাবার তুলে দেয়ার কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সাল হতে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত ৪০ বার গরীব অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়ার আয়োজন করেছেন। প্রতিটি আয়োজনে তার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং দুই শতাধিক মানুষকে দাওয়াত করে তাদের পেট ভরে খাওয়ান।শুরুর দিকে শুধু স্ত্রী তার পাশে থাকলেও বর্তমানে তার বাবা-মা, বড়ভাই, ছোটভাইসহ পরিবারের লোকজন পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারের লোকজনকে সাথে নিয়ে আগামী ২০৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এ কার্যক্রম চালু রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন।
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর
ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম ।
