ঢাকা বুধবার , ৩১ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আ.লীগ নেতা নিহত

আইএম নিউজ
আগস্ট ৩১, ২০২২ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বেনাপোল প্রতিনিধি :: প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা নুর আলম (৫৭) মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন পর তিনি মারা যান।

নুর আলম বেনাপোল পোর্ট থানার আমড়াখালী গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শ্রমিক নেতা। তিনি গত রোববার রাতে একই গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক কারবারি একাধিক মামলার আসামি বাবুর দায়ের কোপে মারাত্মক আহত হন। তার পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ আটক করেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- আমড়াখালী গ্রামের আদেব আলীর ছেলে মুক্তার হোসেন (৩৬) ও তার সহোদর মিজানুর রহমান (৩২) এবং শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের আলী হোসেন (৩৪)।

অপরদিকে নুর আলমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।

নুর আলম এর মেয়ে রানু বেগম জানান, গত রোববার রাতে আমড়াখালীর ইমান আলীর ছেলে বাবুর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমড়াখালী মোড়ে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে দেয় তার বাবার। তাকে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার তিন দিন পর সে খুলনা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ওই ঘটনায় বাবু তার বাহিনী দিয়ে নুর আলমসহ মোট ৭ জনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। নুর আলম এর ভাই শাহ আলমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকেও খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মরিয়ম ও রুহুল আমিন বলেন, বাবু একজন চোরাচালানী। সে মাদকসহ নানা ধরনের অবৈধ ব্যবসা করে। গ্রামের শালিশ বিচারকে কেন্দ্র করে বাবু নিজ প্রভাব বিস্তারের জন্য ইতিপূর্বে মসজিদে বসে শাহ আলম ও নুর আলম এর মাথা কেটে ফুটবল খেলার ঘোষণা দেয়। তার তিন দিন পর ওই হামলা চালায়।

এদিকে বাবুর বোন রিজিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, হেলমেট মাথায় দিয়ে মুখে কাপড় বেঁধে একদল সন্ত্রাসী আজ বুধবার সকালে নুর আলম মারা যাওয়ার সংবাদ শুনে বাবুর বাড়িতে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তাদের বাড়ির যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এছাড়া তাদের বাড়িতে ২টি ককটেলও বিস্ফোরণ করে ওই সন্ত্রাসীরা।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি কামাল হোসেন ভুইয়া বলেন, ওই এলাকায় ঘটনার দিন থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। থানায় নুর আলম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....