বগুড়া প্রতিবেদক :: বগুড়ার শাজাহানপুরে তুচ্ছ ঘটনায় সহকর্মী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জহুরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক অ্যাম্বুলেন্সচালক খুন হয়েছেন।
শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার চককানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে।
কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোরশেদুল হাসান জানান, রাতেই লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, জহুরুল ইসলাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চককানপাড়ার (বগুড়া পৌরসভার অংশ) আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি শজিমেক হাসপাতালের রোগী পরিবহণের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দেওয়া ও নিজে চালাতেন।
শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে একই এলাকার চালক রাব্বী তার অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির সামনে রেখে ভেতরে যান। এ সময় কে বা কারা তার গাড়ির (অ্যাম্বুলেন্স) একটা লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে। রাব্বী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সেটা দেখে পাশেই বসে থাকা নিহত জহুরুল ইসলামের ভাতিজা বাপ্পীকে সন্দেহ করেন।
এ নিয়ে জহুরুল ইসলাম পক্ষের সঙ্গে রাব্বী, হারুন, সেলিম ও সাদিকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তখন রাব্বীর অ্যাম্বুলেন্সের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জহুরুল মেডিকেল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনের পেছনে পৌঁছলে রাব্বী তার সমর্থক হারুন, সেলিম ও সাদিক তাকে (জহরুল) ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা তার শরীরে ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় জহুরুল বাড়িতে গেলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোরশেদুল হাসান জানান, অ্যাম্বুলেন্সের লুকিং গ্লাস ভাংচুর করা হয়েছে সন্দেহে বাকবিতণ্ডা, ভাংচুর ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে রাতেই একই এলাকার হারুন, সেলিম ও সাদিককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
