নিজস্ব প্রতিবেদক :: উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের আরো একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। দখিনের জেলা পিরোজপুরের কঁচা নদীর ওপর বেকুটিয়া পয়েন্টে নির্মিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু চালু হচ্ছে ৪ সেপ্টেম্বর। এদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুটি উদ্বোধন করবেন।
সেতুটি চালু হলে দখিনের জেলা খুলনার সাথে বরিশালের যোগাযোগের পথ সহজ হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আসবে আমূল পরিবর্তন। স্বপ্নপূরণ করবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের। সেইসাথে এ দুই অঞ্চলের সাথে যোগাযোগে বাঁচবে সময়, কমবে ভোগান্তিও। এছাড়াও পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গুলোর ।
দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ শেষে এখন স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছেন এ অঞ্চলের মানুষ। তারা মনে করেন, সেতুটি ঘিরে এই অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য ও শিক্ষার প্রসার ঘটবে বহুগুন। এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।
২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঁচা নদীর ওপর বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনা সড়কের বেকুটিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। করোনা মহামারির মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে সেতুটির নির্মাণ শেষে করে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ১৭তম ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড। ৭ আগস্ট চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর উপস্থিতিতে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ইকোনমি মিনিস্টার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষর করেন।
উভয় প্রান্তে ৪৯৫ মিটার ভায়াডাক্টসহ সেতুটির দৈর্ঘ প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার। ৯টি স্প্যান ও ৮টি পিয়ারের এই সেতুর প্রস্থ ১৩ দশমিক ৪০ মিটার। সেতুর পিরোজপুর ও বরিশাল প্রান্তে ১ হাজার ৪৬৭ মিটার সংযোগ সড়কসহ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে আরও দুটি ছোট সেতু ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে চীন সরকার। বাকি ২৪৪ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে।
সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, ‘জুনে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেতুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে পেয়েছি এ মাসের শুরুতে। এখন সব প্রক্রিয়া শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষা।’
