ঢাকা বৃহস্পতিবার , ২৫ মে ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিনা নোটিশে বসত ঘর ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগ পথে বসেছে পরিবার

সাইদুল ইসলাম মন্টু বেতাগী,বরগুনা
মে ২৫, ২০২৩ ৯:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরগুনার বেতাগী নোটিশ না দিয়ে একটি পরিবারকে বসত ঘর ভেঙে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁরা পথে বসেছেন এবং মাথা গোঁজার বিকল্প জায়গা না থাকায় এখন চরম অসহায়াত্বের কাটাচ্ছেন।
উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ঘর উত্তোলণ করে বসবাসকারী একটি পরিবারকে বসত ঘর ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। প্রশাসনের দাবি বরগুনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অনুযায়ী উচ্ছেদ মামলায় অবৈধভাবে বসবাসকারী হিসেবে ওই পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে পরিবারটিকে একাধিকবার উচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ভূমি অফিস ও পুলিশের সহায়তায় বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রস্থের ঐ জায়গা থেকে বিবিচিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত আ: করিমের ছেলে সোলায়মান হাওলাদারের পরিবারের বসতঘর ভেঙে ফেলেছে। বসত ঘরের ভিটায় লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা-কর্মি অবস্থান করছেন। অভিযানকালীণকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও ভারপ্রাপ্ত কানুনগো রিয়াজ মাহামুদ,ইউনিয়ন উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা আবুল বাসার, রিয়াজুল ইসলাম ও বেতাগী থানার পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান ছত্তার মল্লিক বলেন,এঘটনার খবর পেয়ে দেখতে এসেছি মাত্র। আরও একাধিক কর্মি জানান, স্থানীয় বিষয় হওয়ায় উৎসুক মানুষ হিসাবে দেখতে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
ঐ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: শাহাবুদ্দিন জসিম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরের জব্দ করা মালামালের মধ্যে ১ টি কাঠের চৌকি, প্লাস্টিকের ড্রাম, পিতলের কলসী, ১ বস্তা কাপড়, তিন বান্ডিল পুরানো টিন ও গৃহাস্থলির মালামাল তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং সে গুলো আমি ইউপি পরিষদে রেখেছেন।
ওই জমিতে ২০ বছর আগে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন সেফালি বেগম (৫০)। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ প্রশাসনের লোকজন পুলিশ লইয়া আমগো ঘর ভাঙা শুরু হরে। বর্ষর সময় এহন আমরা কোথায় থাকমু?’
বসতকারী সোলায়মান হাওলাদার (৬০) অভিযোগ করেন, ১৯২৮ ইংরেজি সাল থেকে ঐ এলাকায় বসবাসকরে আসছিলেন। কিন্ত তাদের কোন নেটিশ দেওয়া হয়নি। প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে নোটিশ ধামাচাপা রেখে উচ্ছেদের রায় এনে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে পথে বসেছি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সোলায়মান হাওলাদারের ছোট ছেলে মো: সুজন হাওলাদার বলেন, স্থানীয় দলীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ঐ সময় বসত ঘরে তার মা সেফালি বেগম, বাবা সোলায়মান ও চাচাতো বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী আক্তার অবস্থান করছিলেন। বাবা পেশায় একজন বাবুর্চি। থাকার বিকল্প জায়গা না থাকায় তারা এখন চরম অসহায়াত্বের মধ্যে পড়েছেন। বুধবার রাতে এক কাপড়ে একই গ্রামে খালার বাড়িতে তার মা-বাবা ও বোন রাত কাটিয়েছেন। অন্যায়ভাবে এ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দ্রæত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ওয়াকফ এস্টেটের মোতয়াল্লী আনসার আলী হাওলাদার জানান, সোলায়মানের তার বাড়ি নদীর ওপার। তিনি ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদার হিসাবে ছিলেন। তাই আইন্নুগভাবে এস্টেটের অবৈধ দখলমুক্ত করছে প্রশাসন।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, বরগুনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অনুযায়ী অবৈধভাবে বসবাসকারী হিসেবে উচ্ছেদ মামলায় ওই পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....