বরগুনার বেতাগীতে প্রকল্পভূক্ত ১২৯টি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ৯ হাজার ১০০টি সুবিধাভোগী পরিবার উপবৃত্তির আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।
ফলে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিশু এবং তাঁদের অভিভাবকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। এতে এখানকার অর্থাভাবে যে সব দরিদ্র ও মেধাবী শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল সেই সব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র বৈষম্য হ্রাস ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সরকার জাতীয় সুরক্ষা কৌশল গ্রহণ করে। বিদ্যালয়গামী শিশুদের এই কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নের প্রকল্পভূক্ত ১২৯টি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ৯ হাজার ১০০টি সুবিধাভোগী পরিবারকে উপবৃত্তি প্রদানের আর্থিক সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ বুড়ামজুমদারের সুবিধাভোগী তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরা জিনিয়া বলেন‘ উপবৃত্তিপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি খুব খুশি ও আনন্দ লাগছে।’ সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অভিভাবক মাজেদা বেগম বলেন, উপবৃত্তির এ আর্থিক সুবিধা তাঁর পরিবারের অনেক কাজে এসেছে এবং ভীষন উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলার পূর্ব করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। বিদ্যালয়ে তাঁদের ধরে রাখতে উপবৃত্তি সহায়তা করছে এবং এতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আগের তুলনায় এখন ঝড়ে পড়া প্রায় শূণ্যের কোঠায় নেমেএসেছে।
বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান খান জানান, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার শুন্যে নামিয়ে আনার লক্ষে উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। জনপ্রতি প্রতিমাসে ১৫০টাকা হারে উপবৃত্তির দেয়া হচ্ছে। ৩মাস পর পর জিটুপি (গভারমেন্ট টু পেমেন্ট) পদ্ধতিতে ইএফটি’র মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মায়েদের কিংবা সঠিক অভিভাবকেদের মোবাইলে এই টাকা প্রদান করা হয়।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমদ বলেন, এ উপজেলার প্রকল্পভ’ক্ত প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাচ্ছে। উপবৃত্তির এই অর্থ পরিবারে সহায়তা হিসেবে কাজ করছে এবং ঝড়ে পড়া রোধে ব্যাপক অবদান রাখছে। যা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভ’মিকা রাখবে।
