দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বৃস্টি শুরু হলেও সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) রাত থেকে বুধবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হচ্ছে উপজেলার সর্বত্র। এতে এখানকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, দিনভর বৃষ্টির কারণে শহরের রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল কমে গেছে। লোকজন বৃষ্টির জন্য ভোগান্তিতে পড়েছেন। শ্রমজীবী লোকজন কাজ হারিয়ে বসে আছেন।
স্থানীয়রা জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে থেমে থেমে বৃস্টি শুরু হলেও গত মঙ্গলবার রাত নয়টা থেকেই শুরু হয় টানা বৃষ্টি। কখনো হালকা, কখনো মুষলধারে চলতে থাকে। টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলার ছোপখালী গ্রামের ভ্যানচালক মনু মিয়া (৪৫) বলেন, বৃষ্টিতে লোকজন নেই, আয় নেই। তারপরও পেটের দায়ে ভ্যান চালাচ্ছি। পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডের রিকশাচালক বশির হাওলাদার (৩৫) বলেন, মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে লোকজন ঘরের বাইরে আসে না, রাস্তায় নামলেও বসে থাকা ছাড়া কোনো কাজ নেই। কদাৎচিৎ যাত্রী মিললেও বৃষ্টির মধ্যে টানতে হচ্ছে।
কথা হয় বেতাগী পৌর শহরের ব্যবসায়ী আনিচুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তির সাথে। তারা বলেন, বৃষ্টির কারণে আজ বাজারে মানুষ কম এসেছে আর মালামালেও সংকট রয়েছে। বেচা-কেনা না হলে এভাবে বসে থাকা মানেই ক্ষতি। বৃষ্টিতে বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন পৌর শহরের আরও একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ভালো বিক্রির সম্ভাবনা ছিল, অথচ আজ বৃষ্টিতে সবকিছু ভেসে গেল। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলে তারা জানান।
বৃষ্টির কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় পত্রিকা বিলি করতে পারেননি হকাররা। পত্রিকার একাধিক পাঠক বলেন, পত্রিকা না পড়লে ভালো লাগে না। হকর বাসু দেব বলেন, সকালে পত্রিকা নিয়ে বের হয়েও বৃষ্টির কারণে বিলি করতে পারিনি।
বেতাগী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার বলেন, কেনাকাটা করব বলে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু কেনাকাটা করতে বের হয়েই বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হলো।
পৌর এলাকার কৃষক ফরিদ হোসেন জানান, আশ্বিনের বৃষ্টি তাদের জন্য আর্শীবাদ হলেও টানা বৃষ্টিতে পানি আটকে রোপ আমানের ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। বৃষ্টি এভাবে অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে শীতকালীন সবজি ও রোপা আমন ধানের জন্য তা সর্বনাশও ডেকে আনতে পারে। তবে কেউ কেউ ভিন্ন কথাও বলেছেন। তারা বলেন, বৃষ্টি খুবই প্রয়োজন বলে জানান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় কোন কোন স্থানে আমন ধান তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও। আর বৃষ্টি না হলে বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টি কৃষকের জন্য অত্যন্ত উপকারে আসবে।
