বরগুনার বেতাগীতে অবমূল্যায়ন ও সমন্বয়হীনতাা অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)“র পৌর কমিটির আহবায়কের পদ থেকে স্ব্ছোয় স্বপ্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ করেছেন সহকারি অধ্যাপক মো: জাকির হোসাইন। স্থানীয় প্রেসক্লাবে পাঠানো পদত্যাগ পত্র সূত্রে পদত্যাগের এবিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় সোমবার (৩০অক্টোবর) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদকের বরাবরে এ পদত্যাগ দেন। তার এ পদত্যাগে কারও কারও মাঝে হতাশা বিরাজ করলেও অনেক নেতা-কর্মী দলের এ চরম সংকটময় মহূর্তে এপদত্যাগে তার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
পদত্যাগ পত্রে সদ্যপদত্যাগকারী পৌর বিএনপির আহবায়ক মো: জাকির হোসাইন উল্লেখ করেন, বেতাগী পৌর বিএনপির আহবায়কের পদ তাঁর কাঙ্খিত ছিলো না এবং কমিটির মধ্যে বিদ্যমান সন্বয়হীনতা নিরসন করা সম্ভব হয়নি, বিধায় দীর্ঘ এক বছর আহবায়কের পদে থেকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন নি। বিধায়,আহবায়কের পদ ধরে রাখা সমীচীন নয় বিধায়, স্ব্ছোয় প্রণোদিত হয়ে আহবায়কের এ পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তাছাড়া পদত্যাগ পত্রে আরও উল্লেখ করেন, বরগুনা জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় বিধি অনুযায়ী পদত্যাগ পত্রটি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদকের বরাবরে পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর জাকির হোসাইন অভিযোগ করেন, কমিটির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা নিরসন করা সম্ভব না হওয়ায় আমি গত এক বছরে পৌর বিএনপির আহব্বায়ক পদে থেকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। এজন্য তিনি স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে পৌর বিএনপির আহব্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
জাকির হোসাইন আরও বলেন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও সদ্যসরা কোন কাজে আমাকে ডাকে না। তারা আমাকে সহযোগীতা না করে উপজেলা কমিটিকে সহযোগীতা করে। এতে আমাদের মধ্যে একটা সমন্বয়হীনতা তৈরী হয়। এভাবে আমি কমিটিতে একা হয়ে যাই। এই সমস্যা সমাধানে কয়েকবার জেলা কমিটির স্বরণাপন্নও হয়েছি। কিন্তু তারা কোন সমাধান দিতে পারেনি। সবকিছু বিবেচনা করে আমি কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহীদুল ইসলাম জানান, বিএনপির দুঃসময়ে বিগত বছরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে আগলে রেখেছেন জাকির হোসাইন। দলের এ দু:সময় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পৌর বিএনপির এ নেতার পদত্যাগে বেতাগীতে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও সংকটের সৃষ্টি হবে।
তাঁকে দলীয়ভাবে কোনঠাসা করে রাখার বিষয়ে বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হুমায়ূন কবির মল্লিক বলেন, তাঁকে রাজনীতিতে যতটুকু গুরুত্ব ও প্রধান্য দেওয়া হয়েছে তা আর অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। বিএনপির সভায় আসার জন্য বার বার তাকে আহবান করা হলেও তিনি দীর্ঘ দিন ধরে দলের কোন সভায় কিংবা কার্যক্রমে উপস্থিত হননি।
তিনি আরও বলেন, তার এ পদত্য্যাগে দলের কোন ক্ষতি হবে না। পৌর বিএনপির আহবায়ক হলেও সে এখানকার বাসিন্দা নয়,পাশ^ব^র্তী এলাকার লোক। বর্তমান সরকারের পদত্যাগের বিএনপির একদফা আন্দোলনে এই চরম সংকটময় সময় যে নেতা নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করতে পারেন এতে হতাশা তো দুরের কথা বরং তার ওই সিদ্ধান্তে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছে।
তবে পদত্যাগের বিষয়টি জানেন না জানিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও বরিরশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, ওনি জানেন না, এখন একটি আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলনের সময়ে যখন হাজার হাজার নেতা- কর্মী গুলিবিদ্ধ, অসুস্থ ও গ্রেফতার। সেই মুহূর্তে উনার পদত্যাগের বিষয়টি দুঃখজনক। ওনাকে ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন। এমন একটি সুন্দর সময় উনি পদত্যাগ করেছেন। আমি জানিনা উনি কেমন জিয়ার সৈনিক,কিসের বিএনপি করেছেন? পদত্যাগের এটাই যে একমাত্র কারণ আমি তা মনে করিনা, এর পেছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে। তবে এই মাত্র পদত্যাগের বিষয়টি শুনলাম। সেহেতু এনিয়ে আর কোন কথা বলতে চাই না। আমি বর্তমানে দলীয় একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২ আগষ্ট বেতাগী পৌর বিএনপির এ আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই থেকে জাকির হোসাইন ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বিবিচিনি স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছে।
