আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনএম‘র
প্রার্থীর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে শঙ্কার মাঝেও তোড়জোড় চালাচ্ছেন তারা। আসন বন্টন নিয়ে অনেকে গুড়ে বালি বলে ধারনা করলেও কোন পক্ষই বসে নেই। তাদের মাঝে চলছে উৎসাহপূর্ণ প্রস্তুুতি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)‘র নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুর রহমান খোকন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা এমপি নাদিরা সুলতানার চলছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের জোড় তৎপরতা। তবে এ আসন নিয়ে এখনো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল বুঝতে উঠতে পারছেন না স্থানীয়রা।
দেশের উপকূলীয় জনপদ বেতাগী,বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি সুলতানা নাদিরা পক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ২৭ সদস্য বিশিস্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
ইতোমধ্যে উপজেলার মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার, বেতাগী সদর ও বিবিচিনি ইউনিয়নের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বেতাগী পৌরসভা ও অন্যান্য ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হবে এমনটাই জানান বেতাগী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ।
উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে গাজী রফিকুল ইসলাম ও যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস ছত্তার মল্লিক, বেতাগী সদর ইউনিয়নে হুমায়ূন কবির খলিফা প্রধান সন্বয়ক, আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদ ও যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিন পনু, বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে আহবায়ক মো: শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক মো: চিনার খান, মোকামিয়া ইউনিয়নে গাজী সফিছুর রহমান চুন্নু প্রধান সন্বয়ক, গাজী জালাল আহম্মদ আহবায়ক ও নাসির উদ্দিন মারুফ যুগ্ম আহবায়ক করে ২৭ সদস্য বিশিস্ট কমিিিট গঠন করা হয়।
অন্যদিকে নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)‘র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. আব্দুর রহমান খোকন বেতাগী,বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। বিএনএমের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান খোকনের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলায়। শনিবার বিভিন্ন এলাকায় গনসযোগ করেন এবং পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে মতবিনিময়কালে তিনি সুখে-দু:খে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা এমপি নাদিরা সুলতানা ও তার নিজ এলাকা পাথরঘাটায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সকলের দোয়া চেয়েছেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় চায়ের টেবিলে উঠছে আলোচনার ঝড়। তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় সুত্র জানায়, বরগুনা-২ আসন থেকে বিএনএম‘র প্রতিষ্ঠাতার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় তাঁকে নিয়ে আরও আগ থেকেই এলাকায় চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। কিন্ত নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় আওয়ামী লীগের সাথে বিএনএম‘র আসন বন্টণ নিয়ে ভাগভাটোয়ারার সময় কমে আসায় এলাকায় নানা আলোচনা উঠছে। সমোঝতা হলে এ আসনে এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী থাকছেন আওয়ামী লীগ না বিএনএম! এমন আলোচনাই চলছে সমগ্র আসন জুড়ে।
এ নিয়ে বেতাগী পৌর আওয়ামী লীগের ৭ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান জুয়েল বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দলীয় স্বার্থে যা কিছু করবেন তা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। এখনও আমরা জানিনা তিনি কি নিদের্শনা আসবে।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে বিএনএম‘র রাজনৈতিক সমঝোতার উজ¦ল সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা হলেই এ আসনে বিএনএম প্রার্থী ও তার দল নির্বাচনে মাঠে থাকবেন এমনটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনেকের ধারনা তিনি গ্রিণ সিগন্যাল পেয়েই হয়তোবা মাঠে রয়েছেন। আর এতে বাদ পড়তে পারেন এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি সুলতানা নাদিরা।
নয়া রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএনএম চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়াান্তভাবে নিবন্ধন পায়। চূড়ান্ত নিবন্ধন সনদ পাওয়ার পরপরই বিএনএম নানা আলোচনায় উঠে আসে। জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিংস পার্টি হিসেবে খ্যাত এই দলটি তৎপর হয়ে উঠে।
আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতার কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)‘র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. আবদুর রহমান খোকন বলেন, সমঝোতার উজ¦ল সম্ভাবনা রয়েছে। এখন সব কিছুই সময় বলে দিবে ।
ড. প্রফেসর আব্দুর খোকন একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফ্রেরুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তৎকালীন সময় বরগুনা-১ (সদর-বেতাগী) নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে ৩৬ হাজার ২৫০টি ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়ে ১৮ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রার্থী হন।
