রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে সুনিশ্চিত বিজয়ের পথে নৌকা। আর বাকিদের সামনে কঠিন লড়াই।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন সুলতানা নাদিরা। তিনি বরগুনা সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রয়াত সংসদ সদস্য বরগুনা-২ আসনের (২০০৮-২০১৩) গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী।
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার মনে করেন, গত পাঁচ বছর নারী সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে ছিলেন সুলতানা নাদিরা। প্রয়াত স্বামী গোলাম সবুর টুলু ফাউন্ডেশনের আওতায় সুলতানা নাদিরা ও ছোট মেয়ে হাছছানা নাদিরা সবুর এলাকায় শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সেবামূলক কাজের পাশাপাশি নারীদের স্বকর্মসংস্থানে শতাধিক দোকান করে তুলে দিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে করোনাকালীন সময় এমনকি স্থানীয় ছোটখাটো সংকটেও এলাকায় ছুঁটে এসে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আপ্রান চেষ্টা করেন। ফলে এখানকার ভোটারদের মাঝে সবচেয়ে ভরসারস্থল ও আস্থাভাজন মানুষ সুলতানা নাদিরা।
তাছাড়া গত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় বড় মেয়ে ফারজানা সবুর রুমকি নিজে এলাকায় থেকে চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা করে তাদের বড় একটা অংশকে জিতিয়ে এনে নিজেদের দলে বাগিয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থেকে দলকেও কবজায় রেখেছেন। ফলে এ আসনে সুলতানা নাদিরার একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এসব বিবেচনায় দলীয় কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীও হননি বলে এমনটাই মনে করছেন পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাবির হোসেন সহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে তার সাথে শক্তিশালী ও দলীয় স্বতন্ত্র কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী মাঠে নেই। তাই স্থানীয় ভোটার ও বিভিন্ন পেশার মানুষরা নৌকার প্রর্থীর বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র এমনটাই মনে করছেন। আর অন্যসব প্রার্থীদের সামনে রয়েছে কঠিন লড়াই।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বরগুনা- ২ আসন থেকে মোট ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ১১ জনের মধ্যে দলীয় কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল না। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলো জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিজানুর রহমান। কিন্তু ঋণ খেলাপির দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয় মিজানুর রহমানের। এর মধ্যে জাকের পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় এবং একজন স্বতন্ত্রসহ দুজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এ আসনে সুলতারা নাদিরাসহ মোট ৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। কিন্ত তাদের মধ্যে কোন প্রতিদ্ব›দ্বীতা নেই।
এর মধ্যে নোঙ্গর প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত প্রার্থী দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ড. আব্দুর রহমান খোকন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, সোনালী আঁশ প্রতীকে তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান লিটন, হাতুড়ি প্রতীকে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেন ও ফুলের মালা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম। এরও অনেকেই মাঠে নেই।
তবে যিনি মাঠে রয়েছেন বিএনএফএর প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ড. আবদুর রহমান খোকন এ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে আসনটি বিএনএফকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। শেষ অবধি বিএনএফকে আসন ছেড়ে দেয়নি শাসকদল। ফলে বরগুনা-২ আসনে সুলতানা নাদিরার উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্ব›দ্বী এখন বিএনএফের প্রার্থী আব্দুর রহমান। তাই শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকায় অনেকটা একপেশে নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অবশ্য বিএনএম মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুর রহমান খোকন আশা পোষন করেন হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার করে দলমত নির্বিশেষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পক্ষে জনগণ তাঁকেই ভোট দেবেন।
বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবির বলেন, এখানকার ভোটাররা এ আসনটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়ে আসছেন। বর্তমানে সেই আসনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকায় ভোট দেওয়ার অনুরোধ করায় নৌকার বিজয়ে আরও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা মনে করছি এ আসনে নৌকার জয় সুনিশ্চিত।
নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুলতানা নাদিরা বলেন, বামনা,বেতাগী ও পাথরাটা আওয়ামী লীগ ও নৌকার যে ঘাঁটি এ আসনের জনগণ ভোটে জয়ী করে তা আবারও প্রমাণ করবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও স্মার্ট বরগুনা গড়তে জনগণ তাঁকে ভোট দিবেন।
