ঢাকা সোমবার , ২৫ মার্চ ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেতাগীর মোকামিয়ায় খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

সাইদুল ইসলাম মন্টু বেতাগী,বরগুনা
মার্চ ২৫, ২০২৪ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের মাছুয়া খালী বাজার এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি খাল দখল নিয়ে ঘর নির্মাণ করে কেউ বসবাস আবার অনেকে ভাড়া দিয়ে আসছেন এমনই অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা (ভূমি) অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ওয়ান ইলেভেনের সময় মোকামিয়া ইউনিয়নের মাছুয়াখালী ও ছোট মোকামিয়া মৌজার মোকামিয়া বাজারের অবৈধস্থাপনা ভেঙে এ খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা আবার দখলের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে ঘর নির্মাণ করে দখলে নিয়ে কেউ বসবাস আবার কেউ বছরের পর বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন। স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করলেও বদলিজণিত রদবদল এবং কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য নানা কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খালের জমির একাংশ দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে আরসিসি ভিত দিয়ে অবৈধভাবে পাকা ইমারত নির্মাণ করছে। ভূমি অফিস থেকে বাধা প্রদান করা হলেও তাতে কোন কাজ হয়না। কিছু সময়ের জন্য তারা থেমে পরে আবারো কাজ চালিয়ে যায় ওইসব ব্যক্তিরা। এ বিষয় স্থানীয়দের পক্ষ খেকে বেতাগী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি)‘র নিকট লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোকামিয়া বাজারের মাছুয়াখালী মৌজার পশ্চিম পাশ ও ছোট মোকামিয়া মৌজার পূর্ব ও উত্তর পাশের খাল দখল করে তীরে একাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ যোগ্য খালের দক্ষিণ পাশে পুল সংলগ্ন ইউপি সদস্য শাহীন হাওলাদারের ভাড়া দেওয়া আধাপকা ঘর, সুজন ট্রেইলাস পাকা ভবন, নুরু মুন্সি, ফিরোজ হাওলাদার আধা-পাকা, বাদল মৃধার পাকা ভবন, বাবুল মৃধার আধা-পাকা ভবন, পূর্ব পাশে ফারুক হোটেল, সবুজ হোটেল ও কুদ্দুস হোটেল আধা-পাকা ঘর ও খলিল হুজুর পাতা এবং পশ্চিম পাশে মসজিদ সংলগ্ন ইউপি সদস্য শাহীন হাওলাদারের আধা-পকা ও রিক চান হাওলাদার দ্বোতালা পাকা ভবন সহ ২০টি ঘর সেখানে রয়েছে বসত আধা-পাকা বসত ঘর ও নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাছুয়াখালী বাজারের একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘এদের অনেকেরই টিনের ঘর ছিল, এখন তার অনেকেই পাকা দালান বানিয়েছে।’
মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের বাজার এলাকার ইউপি সদস্য শাহীন হাওলাদার জানান, মোকামিয়া বাজার এলাকায় ১৫ থেকে- ২০ জনের মতো অবৈধ দখলদার রয়েছে। খালের জমির একাংশ দখল করে তারা ঘর-বাড়ি উত্তোলন করে অনেকে বসবাস ও ভাড়া দিয়েছেন। দেশের নাগরিক হিসেবে কেউই আইনের বাইরে নয়। যে যাই কিছু করিনা কেন সঠিকপন্থা অণুসরণ করে সরকারের নিয়মকাণুন মেনে চলা দরকার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ খালে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করা না হলে আগামীতে খালের অবাধ ও স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহে বিঘœতার সৃষ্টি এবং কৃষিকাজ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেতাগী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: রিয়াজ হোসেন জানান, সরকারি জমি দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া পরও নামের ওই ব্যক্তি ভবন নির্মাণ চালিয়ে আসছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
বেতাগী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভুমি) বিপুল সিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনা রাখার কোন সূযোগ নেই। যথা শীঘ্র সম্ভব ঐ এলাকা পরিদর্শন করে সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....