ঢাকা বৃহস্পতিবার , ৭ আগস্ট ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেলনা কচুরিপানাই এনে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা, রপ্তানি হচ্ছে ২৫ দেশে

আইএম নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ৭, ২০২৫ ৩:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একসময় অযত্নে পড়ে থাকা জলজ আগাছা কচুরিপানা এখন হয়ে উঠেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক পরিবার এই ফেলনা উদ্ভিদ থেকে আয় করে বদলে ফেলছে নিজের ভাগ্য।

নদীনালা, খালবিল ও পুকুর থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর সেই কাঁচামাল পাঠানো হয় দেশের কুটির শিল্পে ব্যবহারের জন্য। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে তৈরি হয় রঙিন পাটি, টুপি, জায়নামাজ, ব্যাগ, পাপোশ, ঝাড় এবং অন্যান্য হস্তশিল্প সামগ্রী। এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে। ফলে এক সময় যাকে ফেলে দেয়ার মতো আগাছা মনে করা হতো, সেই কচুরিপানাই এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায় এটি ‘বিনা পুঁজির ব্যবসা’। সংগ্রহ, শুকানো ও পরিবহন ব্যতীত অন্য কোনো খরচ নেই। গৃহবধূ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই জড়িত এই কাজে। প্রতি কেজি শুকনো কচুরিপানা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সোনাপুর এলাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১০ টন কচুরিপানার লেনদেন হয়।

স্থানীয় যুবক আয়মান হাওলাদার বলেন, ‘এই কচুরিপানার ডগা দিয়েই তৈরি হয় রপ্তানিযোগ্য হস্তশিল্প পণ্য। এর চাহিদা বিদেশে অনেক।’

তবে সমস্যার জায়গায় রয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। কৃষক মোকছেদ মিয়া জানান, ‘এখানে কেউ জমি চাষ করে না, কেবল কচুরিপানা তুলে বিক্রি করেই সংসার চলে। কিন্তু রাস্তা নেই, নৌকাই একমাত্র ভরসা। যদি ভ্যান চলার মতো রাস্তাও থাকত, তাহলে দারিদ্র্য অনেকটা কমে যেত।’

এই সম্ভাবনাকে আরও সম্প্রসারণে কাজ করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। আলমগীর হোসেন নামের এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা এখান থেকে শুকনা কচুরিপানা কিনে রংপুরে পাঠাই। ওখানে এগুলো দিয়ে নানা পণ্য তৈরি হয়, পরে রপ্তানি হয় বিদেশে।’

আরও পড়ুন: ঘরে কাঁদছিল ৪ মাসের শিশু, পাশে পড়ে ছিল মায়ের নিথর দেহ

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি গাওখালীর কচুরিপানা এখন রপ্তানি হচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ। যদিও এগুলো চাষের নয়, প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো। তবে আমরা ভাবছি, কীভাবে এই উদ্যোগে কৃষকদের আরও সহায়তা করা যায়।’

এক সময়ের অবহেলিত জলজ উদ্ভিদ এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার সোনার ফসল। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে কচুরিপানানির্ভর এই অর্থনীতি পুরো অঞ্চলকে নিয়ে যেতে পারে এক নতুন গ্রামীণ শিল্পবিপ্লবের পথে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....