পঞ্চগড়ে এখন চলছে পাটের আঁশ ছড়ানোর মৌসুম। তবে এর ব্যতিক্রমী চিত্র হলো-শ্রমিকরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধু পাটখড়ির জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নারী-পুরুষের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও বিনা মজুরিতে পাট থেকে আঁশ ছড়িয়ে খড়ি সংগ্রহ করছেন। জেলার সর্বত্র এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।
এ সময়টাতে কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোন কাজ না থাকায় শুধু পাটখড়ির জন্য বিনামূল্যে পাটের আঁশ ছড়াচ্ছে তারা। এই কাজের জন্য তারা কোন পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে দেখা গেছে, স্কুল পড়ুয়া শিশুদের নিয়ে বাবা-মা সবাই মিলে পাটের আঁশ ছড়াচ্ছে তারা। এতে সারাবছর নিজের রান্নার কাজের পাটখড়ি জোগাড় হয়ে যায়। কেউ আবার তা বিক্রি করে চড়া দামে।
পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েত পাড়া গ্রামের বৃষ্টি বেগম (৩৬)। স্বামী অটোরিকশা চালায়। রান্নার জন্য এখনও তাদের নির্ভর করতে হয় খড়ির উপর। পাঁচ সদস্যের সংসারের রান্না করতে সারাবছর প্রয়োজন হয় অনেক খড়ি। ইদানীং নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের সঙ্গে দাম বেড়েছে খড়িরও। তাই তারা সবাই মিলে পাটের আঁশ ছড়াচ্ছেন।
বৃষ্টি জানান, গত দুইদিন ধরে বাড়ির পাশের এক কৃষকের পাটের আঁশ ছড়াচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে যতগুলো পাটখড়ি পেয়েছেন তাতে করে সারাবছরের চুলা জ্বালানোর কাজ করতে পারবেন।
জালাসি এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর আমি এক একর জমিতে পাট চাষ করেছি। সড়কের পাশের খালে এসব পাট জাগ দিয়েছি। কিন্তু আঁশ ছড়াতে গেলে অনেক খরচ হতো। তাই আশপাশের গরিব মানুষদের বলেছি-যার খড়ি দরকার, তারা আঁশ ছড়িয়ে নিয়ে যাক। এখন অনেকেই পানি থেকে জাগ দেয়া পাট তুলে আঁশ ছড়াচ্ছেন। এতে আমার এক একর জমির আঁশ ছড়াতে সপ্তাহও লাগেনি। আমি শুধু শ্রমিক দিয়ে আঁশ শুকিয়ে বাড়িতে রেখেছি বিক্রির জন্য। এতে আমার খরচ বেঁচেছে, আর গরিব মানুষদেরও উপকার হয়েছে।’
