ঢাকা বুধবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোনো ছবির যখন আলাদা করে ক্যাপশনের প্রয়োজন হয় না – পি আর প্ল্যাসিড

আইএম নিউজ
ডিসেম্বর ১৪, ২০২২ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সম্প্রতি লেখার সাথে নীচে ব্যবহার করা স্কুল ড্রেস পড়া অবস্থায় কোলে একটি বিড়াল ছানা নিয়ে পথ দিয়ে যাবার কালের দৃশ্যের ছবিটি ফেসবুকে ঘুরে ফিরছিলো। স্কুল ড্রেস পড়া মেয়ের ছবিটি দেখে প্রথমেই যার কথা খুব মনে পড়েছে আমার, সে হলো মিস সৈয়দা সাবিকুন নাহার তুবা। পেশায় সে একজন ছাত্র/ছাত্রী। দু’ দুবার মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে পুনরায় সে ল’ বিভাগে পড়াশোনা করছে।

এ বছর, (২০২২) মে মাসের শেষ দিকে আমি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল গিয়েছিলাম। বরিশালে তুবার সাথে আমার দেখা হয়। বরিশাল যাবার পর স্থানীয় এক সাংবাদিকের কাছে তুবার নানা ধরনের মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড সম্পর্কে শোনার পর তুবাদের বাসায় গিয়েছিলাম তার কাজের ধরন দেখতে। খুব অল্প সময়ে চোখের দেখা দেখে ফিরে আসার পর এখন পর্যন্ত আমি ভুলতে পারছি না তুবার কাজের দৃশ্য। বরিশাল সদরে “সুগন্ধা” বায়তুল মামুর মসজিদ লেন, মেজর এম এ জলিল সড়ক, বরিশাল, এই ঠিকানায় তুবার বসবাস।

তুবা তার ছোটবোন এবং বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে রাস্তার কুকুর – বিড়াল সহ নানা জাতের পশু-পাখির সেবা করছে। অসুস্থ হলে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার পর পুনরায় ফিরিয়ে দিচ্ছে এগুলোর আগের স্থানে। বিষয়টি দেখে বিস্তারিত জানার পর আমার এবিষয় নিয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি। এই সময় কালের মানুষও যে জীবে দয়া করে, জীব – জন্তুর প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পারে এটা জানা থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার এতোটা ধারণা ছিল না।

তুবা জানিয়েছে তারা তাদের পকেট খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে বরিশালে “এ ডব্লিউ বি রেস্কিউ সেন্টার” নামের এই সেন্টার চালায়। বর্তমানে তাদের সেন্টারে সব মিলিয়ে রয়েছে ৮০ টির অধিক পপশু-পাখি। এলাকার মানুষ তাদের এই কাজ করাটাকে পাগলামী বলে। তাকে দেখে ধিক্কার দেয়। মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় ফেলে এলাকার লোক। কেউ তাদের এই কাজটিকে পছন্দ করে না বা ভালো চোখে দেখে না। এই কাজের জন্য পারলে এলাকা থেকে তাদের বিতারিত করে যেন। কিন্তু বাড়িটি তাদের নিজেদের বলে কেউ তাদের উৎখাত করতে পারছে না। তুবা জানালো ২০১৮ সাল থেকে তাদের এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু।

তুবাদের বাড়িতে দেখে আসার পর আমি কথা দিয়েছিলাম তাদের এই কাজের সাথে আমি জড়াবো। তাই শুরুও করেছিলাম তুবাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের সকল সদস্যদের এক সেট টি-শার্ট দিয়ে। কিন্তু যার মাধ্যমে তুবার সাথে আমার পরিচয় তার আচরণে আমি আমার এই কাজে জড়িত হবার বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখি। কিন্তু মন আমার সর্বক্ষণ তুবার কাজের প্রতি ছিল এবং আছে। কতোদিন থাকবে জানি না। তবে তুবার এই কাজকে সমর্থন – প্রশংসা করতে কার্পণ্য করবো না। আমি বাংলাদেশের মেয়ে তুবার এই পশু প্রেমকে সমর্থন জানিয়ে তার সফলতা কামনা করছি।

বরিশালের মেয়ে তুবার পশু প্রেমের প্রসঙ্গ নিয়ে লেখার কারণ হচ্ছে, আমরা রাস্তা দিয়ে বিড়াল কোলে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মেয়েটির ছবি ভাইরাল করছি, মানসিকতা আর মানবিকতার প্রশংসা করছি তাহলে তুবাকে নিয়ে কেনো নয়। তুবা অবশ্যই প্রচার পাবার যোগ্য তাই লেখার অবতারণা করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তুবার শুভ কামনা করছি।

নীচের এই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটির কোলে একটি বিড়াল। পিছনে একটি কুকুর ছানা তার কাপড় কামড়ে ধরে পিছু নিয়েছে। পাশে অন্য একটি বড় কুকুর তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে মেয়েটির পশু প্রেমের দৃশ্য। কুকুরের মনে কি আছে জানি না। কিন্তু তার তাকিয়ে থাকার যে চিত্র ফুটে উঠেছে আর কুকুর ছানা কাপড়ে কামড়ে ধরে পিছু হাঁটার যে দৃশ্য দেখছি, তা সত্যি-ই বর্তমান যুগের এই পৃথিবীর মানুষদের অন্তরদৃষ্টিতে কখনোই ধরা পড়বে না। লোভ আর স্বার্থপরতায় নিমজ্জিত মানব সমাজ যেখানে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সেখানে এসব চোখে পড়ার কথাও না। তাই যদি হতো তাহলে মানুষে আর পশুতে না হলেও মানুষে মানুষে সম্পর্ক হতো আরো নিবিড়, আরো সুন্দর – প্রেমময়। পৃথিবীতে যুদ্ধ বলে কোনো কিছুর আর অস্থিত্ব থাকার কথা নয়।

ছবির এই মেয়েটি বাংলাদেশের কোন এলাকার আর ছবিটি কে তুলেছে কিছুই কিছুই জানা নেই। তবে এই ছবির গায়ে দ্য ডেইলি স্টার লেখা দেখে বুঝতে পারি এটা যে এই প্রতিষ্ঠানেরই কোন ফটো সাংবাদিকের কাজ। সুতরাং যিনি ছবি তুলেছেন তাকে এবং পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

ছবিটি ভাইরাল হওয়া এবং এর সাথে লেখা স্ট্যাটাস আর মন্তব্য দেখে মনে হয়েছে যে না, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মানুষের চেহারায় মানুষ আছে আর এমন মানুষ আছে বলেই এখন পর্যন্ত মানুষ আর পশুর আবাসস্থল এই পৃথিবীতে টিকে আছে। এমন মানুষদের কারণেই পৃথিবী টিকে থাকবে যুগযুগ ধরে, ভালো ভাবে, মানুষ আর পশুর কল্যাণে।

 

লেখকঃ পি আর প্ল্যাসিড, জাপান প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক,  সম্পাদ, বিবেক বার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন....