ঢাকা সোমবার , ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে রাতের অন্ধকারে ১২ মন্দিরে ভাঙচুর

মনসুর আহাম্মেদ, ঠাকুরগাঁও
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৪ টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৫ ফেব্রুয়ারী) আনুমানিক ভোর রাতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ধুকুরঝাড়ী সিন্দুপিন্ডী গ্রাম থেকে টাকাহারা গ্রাম পর্যন্ত ৯টি মন্দিরের প্রতিমা, পাড়িয়া ইউনিয়নের জাউনিয়া থেকে কলেজপাড়া গ্রাম পর্যন্ত ৪টি মন্দিরের প্রতিমা ও চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর পশ্চিমনাথপাড়া ১টি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর হয়।

ধনতলা ইউনিয়নের পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিন্দুরপিন্ডি মন্দির কমিটির সভাপতি জোতিময় সিংহ বলেন, ‘প্রায় অর্ধশত বছর ধরে আমরা মন্দিরে পূজা করে আসছি। কোনো দিন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আজ ভোর রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যা নাথ বর্মন বলেন, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৪ টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে কে বা কাহারা। আমি সবগুলো মন্দির পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত হোক না কেন তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম
ঠাকুরগা জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অরুণাংশ দত্ত টিটু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল বলেন, যে সকল মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এসব মন্দির অনিরাপদহীনভাবে রাস্তার পাশে ছিল। এ ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তাই সকল সহযোগতী করা হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সচেতন মূলক পদক্ষেপ নেবে।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যেটি মনে হয়েছে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ ঘটনা উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার কথা বলেন তিনি। সনাতন ধর্ম অবলম্বীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, পরিবেশ স্বাভাবিক আনতে কাজ করছেন প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একটি মামলা অজু হয়েছে মামলার তদন্তের কাজ চলছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন সংখ্যালঘুর জনগোষ্ঠীর সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, আমরা এর উচিত বিচার চাই আর যেন কোন ধর্মের প্রতি আঘাত না আসে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রতিমা ভাঙচুর বিষয়ে দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন....