গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ময়মন্তপুর রুহুল আমিন দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রসা এবং ঠুটিয়াপাকুর আলহাজ্জ একরাম উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় ভুয়া গবেষণাগার ও মনগড়া শীক্ষার্থীর তথ্য উপস্থাপন করে নিয়ম বর্হিভুতভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ময়মন্তপুর রুহুল আমিন দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসায় অনুসন্ধানে গিয়া দেখা যায় মাদ্রাসাটিতে কোন প্রকার বিজ্ঞানের গবেষনাগার/ল্যাব নেই। অফিস রুমে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থী না থাকায় অফিস রুমেই পরে আছে শত শত সেট চলতি শিক্ষা বছরেরর নতুন বই। তবে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীর বিষয়ে জানতে ক্লাসের হাজির খাতা দেখতে চাইলে দ্রুত হাজিরা খাতায় কিছু শিক্ষার্থীর নাম লিখে নিয়ে আসে। তবে কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তবে মাদ্রসাটিতে কোন বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী এবং গবেষনাগার/ল্যাব দেখাতে পারেন নাই৷ অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানে গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী (সৃষ্টপদ) পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
এদিকে ঠুটিয়াপাকুর আলহাজ্জ একরাম উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার চিত্র আরও ভয়াবহ প্রতিষ্ঠানে মোট সচল কক্ষের সংখ্যা ০৪ (চার) টি। যার মধ্যে শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য ০১ টি কক্ষ, অপর একটি কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে উত্তোলনকৃত বিপুল পরিমানের অবিতরনকৃত পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা চলতি শিক্ষাবর্ষের নতুন বই, মাদ্রাসার কিছু কাগজপত্র এবং অপর ০২ টি কক্ষে চলে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইবতেদায়ী ও দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সেখানে বিজ্ঞান ল্যাবের অস্তিত্ব কল্পনা প্রসুতমাত্র। অথচ উক্ত প্রতিষ্ঠানেও গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী (সৃষ্টপদ) পদে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
এবিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী (সৃষ্ট পদ) পদে লোক নিয়োগের জন্য কোন প্রত্যয়নপত্র কিংবা সুপারিশপত্র তিনি প্রদান করেন নাই। তবে প্রতিষ্ঠান দুইটিতে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের জন্য তিনি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে জানান তিনি৷ কথা অনুযায়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে ময়মন্তপুর রুহুল আমিন দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রসার গবেষনাগার/ল্যাবের দাখিলকৃত কাগজপত্রে দেখা যায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব এবং অপর স্থিরচিত্রটি প্রতিষ্ঠানের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে থাকা বুক সেলফ এবং বুক সেলফ এর ভিতরে থাকা কিছু বই, কম্পিউটার যন্ত্রাংশের বক্সের ছবি এবং কয়েকটি লেভেল লাগানো ঔষধের খালি কাঁচের বোতল। যা কোনভাবেই গবেষনাগার/ল্যাব হিসেবে পরিচিত হইতে পারে না।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) ৬.২ ক্রমিকের ক এর (১) নং এ বলা হয়েছে নবম শ্রেণিতে মানবিক, বিজ্ঞান ইত্যাদি খোলার জন্য প্রতি বিভাগে নুন্যতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠান দুইটির কাগজ কলমে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ থাকিলেও সরেজমিনে অনুসন্ধানের একাধিক দিনও উল্লেখিত পরিমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত পাওয়া যায় নাই।
নীতিমালা বর্হিঃভুতভাবে বিজ্ঞানাগার এবং প্রতিষ্ঠান দুইটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী না থাকা স্বত্ত্বেও এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিজ্ঞানাগার/ল্যাব স্থাপনের কথা বলিয়া গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী (সৃষ্টপদ) পদে লোক নিয়োগের জন্য প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়টি এলাকাবাসী এবং মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের স্বচ্ছ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করিয়া তুলেছে। এমতাবস্থায় উল্লেখিত মাদ্রাসা দুইটির গবেষনাগার/ল্যাব সহকারী (সৃষ্টপদ) পদে লোক নিয়োগের সমুদয় কার্যক্রম বন্ধ করে অবৈধ নিয়োগ প্রদানের কথা বলিয়া মনোনীত ব্যক্তিদের নিকট হইতে টাকা গ্রহণের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী এলাকাবাসীর।
